
বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম নগরীর যানজট ও পরিবেশদূষণ কাটাতে এবং নগরবাসীদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের বিকল্প সৃষ্টি করতে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। উদ্বোধনের একদিন আগে বৃহস্পতিবার ট্র্যাকের সার্বিক প্রস্তুতি ও নির্মাণমান পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
উদ্বোধন আগামীকাল, মেয়রের পরিদর্শন আজ
পরিদর্শনকালে মেয়র সাইকেল ট্র্যাকের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং উদ্বোধন উপলক্ষে চলমান প্রস্তুতি, নির্মাণমান ও নাগরিকদের চলাচলের সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেন। তিনি ট্র্যাকটি ব্যবহারকারীবান্ধব, নিরাপদ ও নান্দনিকভাবে প্রস্তুত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরিদর্শনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. আলী সহ অন্যান্য বরিষ্ঠ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
ট্র্যাকের বৈশিষ্ট্য ও প্রাকলন
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন “চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রায় ২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি চার লেনবিশিষ্ট। সড়কের উভয় পাশে দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কের মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইল্যান্ড এবং এক পাশে ল্যান্ডস্কেপিং ওয়াকওয়ের সাথে সংযুক্ত সাইকেল ট্র্যাক তৈরি করা হয়েছে। ফলে সড়কটি শুধু যান চলাচলের উপযোগীই হবে না, বরং নগরীর সৌন্দর্য ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।
মেয়রের ভাবনা: সাইকেলবান্ধব চট্টগ্রামের স্বপ্ন
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছি। বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের নগর ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। এটি শুধু একটি সাইকেল চলাচলের পথ নয়, বরং পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর নগরজীবনের দিকে আমাদের অগ্রযাত্রার প্রতীক।”
তিনি আরও বলেন, নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাইকেল চলাচলের জন্য পৃথক লেন থাকায় একদিকে সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে নগরীতে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতন ও সক্রিয় জীবনযাপনের প্রবণতাও বৃদ্ধি পাবে।
“আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। নিরাপদ সাইকেল চলাচলের পরিবেশ তৈরি হলে সাইকেল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে, যানজট ও দূষণ কমবে এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামকে একটি সাইকেলবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।” — মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
নগরবাসীদের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগকে নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সাইকেল ব্যবহারে আগ্রহ সৃষ্টি, শরীরচর্চার সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাইকেল ট্র্যাকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনেক নগরবাসী মনে করেন, এই ট্র্যাক চট্টগ্রামের যানজট সমস্যা আংশিকভাবে কাটাতে সাহায্য করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাইকেল ট্র্যাকের সফল বাস্তবায়নের জন্য শুধু নির্মাণই যথেষ্ট নয়, বরং এর রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনচেতনা সৃষ্টি সমান্তরালভাবে চলতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ভবিষ্যতে নগরীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও সাদৃশ্য সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়ার সংকেত দিয়েছে।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও নগরবাসীদের জন্য উন্মুক্ত
আগামীকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর নগরবাসীদের জন্য বাংলাদেশের প্রথম এই সাইকেল ট্র্যাক উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উচ্চ কর্মকর্তারা, জনপ্রতিনিধিগণ, সিভিল সোসাইটির সদস্যরা এবং সাধারণ নগরবাসীরা উপস্থিত থাকবেন। নগরীর ইতিহাসে এই নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হতে হাজার হাজার চট্টগ্রামবাসী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
